ভূমিকা-: সমাজ বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা হলো ইতিহাস। জ্ঞানের অন্যান্য শাখার মতো ইতিহাসের ও নিজস্ব লিখন পদ্ধতি রয়েছে। আমাদের চারপাশে নানান ঐতিহাসিক উৎস ও তথ্যের সাহায্যে বিজ্ঞানসম্মতভাবে বেশ কিছু নিয়ম পদ্ধতি মেনে ঐতিহাসিকরা ইতিহাস রচনা করেন। বিউরি বলেছেন - history is science no less and no more. মার্কউইক এর মতে, "প্রকৃত ইতিহাস লিখুন দ্বন্দ্ব যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার মতো কঠিন কাজ।"
আরো দেখুন
আধুনিক ইতিহাসের লিখন পদ্ধতি-:
আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাস রচনা করতে গেলে একজন ঐতিহাসিক কে ইতিহাস রচনার সুসংবদ্ধ পদ্ধতির যেসব নীতি অনুসরণ করতে হয় তা হল-
উৎস সংগ্রহ- যথার্থ ইতিহাস রচনা করতে গেলে একজন ঐতিহাসিকের প্রধান কাজ হবে বিভিন্ন ধরনের উৎসের সন্ধান করে সেগুলি সংগ্রহ করা। উৎস বিভিন্ন ধরনের হতে পারে যেমন - ১. প্রত্নতাত্ত্বিক (লিপি, মুদ্রা, জীবাশ্ম, হাড়গোড়, আসবাবপত্র ইত্যাদি।)
২. চিত্রভিত্তিক উৎস (চিত্রকলা, নকশা, গুহাচিত্র প্রভৃতি।)
৩. মৌখিক উৎস (পৌরাণিক কাহিনী, স্মৃতিকথা, কিংবদন্তি ইত্যাদি।)
৪. লিখিত বিবরণ (বিভিন্ন লিপি, সন্ধি, সংবাদপত্র, শাসকদের নির্দেশ প্রভৃতি।)
উৎসের শ্রেণিবিভাগ -: ইতিহাসের উপাদান বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমন অতি প্রয়োজনীয়, প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় এই তিন প্রকারের হতে পারে। ঐতিহাসিক এর কাজ হবে উৎস গুলিকে গুরুত্ব অনুযায়ী চিহ্নিত করা এবং স্বচ্ছ জ্ঞান লাভ করা। এরপরেই তিনি ইতিহাস রচনার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
উৎস সম্পর্কে গবেষণা -: উৎসগুলিকে যথেষ্ট অনুসন্ধানের পর ঐতিহাসিক উৎস গুলি কে নিয়ে ঐতিহাসিকেরা সুসংবদ্ধ পদ্ধতিতে গভীরভাবে গবেষণা করবেন এবং গবেষণাটি হবে গভীর ও নিরপেক্ষ। তারপরেই তিনি উৎস টির সমকালীন যুগ ধর্ম, অর্থ সামাজিক অবস্থা, সাংস্কৃতিক অবস্থা, রাজনৈতিক অবস্থা, উৎসটির নির্মাতার মনন শীলতা প্রভৃতি বিষয়ে অনুসন্ধানের চেষ্টা করবেন।
কার্যকারণ পদ্ধতি ও প্রশ্ন উত্তরের ব্যবহার -: ঐতিহাসিক উৎস গুলিকে গভীরভাবে গবেষণা করার পর সেগুলি কার্যকারণ পদ্ধতি ও প্রশ্ন উত্তর পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করবেন। প্রতিটি ঘটনার পেছনে যেমন একটি কারণ থাকে তেমনি ঐতিহাসিক ইতিহাসের যে ঘটনাকে বিশ্লেষণ করেছেন সেই ঘটনাটির কার্যকারণ সম্পর্কটি খুঁজে বার করবার চেষ্টা করবেন। এখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। উৎস টি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন করা হলে তবেই সঠিক তথ্যটি পাওয়া যেতে পারে।
তথ্য সংরক্ষণ ও ইতিহাস রচনা-: দীর্ঘ গবেষণার পর ঐতিহাসিক উৎস গুলি সম্পর্কে যেসব তথ্য পাবেন সেগুলিকেই নোটবুকে লিপিবদ্ধ করবেন। নোটবুক এর তথ্যগুলি যথার্থভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করে যথার্থ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস রচনা করবেন।
ধারাবাহিকতা ও কালানুক্রম -: ইতিহাসে ঘটনাবলীর সময়ের পদবেয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হয়। এইজন্য ঐতিহাসিক ইতিহাস রচনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন। ইতিহাসের ঘটনাবলী কে তারা সূচনা পর্ব, গতি প্রকৃতি বা মধ্যাবস্তা বা ঘটনার পরিণতি এই তিন ভাগে ভাগ করে রচনা করবেন।
ভৌগলিক অবস্থানের উল্লেখ -: ঐতিহাসিক ইতিহাস রচনার সময় প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনারীর ওই ভৌগোলিক অবস্থার কথা উল্লেখ করবেন। যেমন -'অশোকের সম্পর্কে ইতিহাস রচনা করতে গেলে অবশ্যই পাটলিপুত্রের কথা উল্লেখ করতে হবে।'
মূল্যায়ন-:
একজন ঐতিহাসিক উৎস অনুসন্ধান, তথ্য উদঘাটন, কালানুক্রম, ভৌগলিক অবস্থান প্রভৃতি বিষয়ের উল্লেখ এর মাধ্যমে যথার্থ ইতিহাস রচনা করবেন। তবে রচনার ভাষা হতে হবে মধুর ও সহজ সরল। না হলে রচিত ইতিহাসটি পাঠকের কাছে মরুভূমির তত্ত্ব বালিতে পড়ে থাকা শুষ্ক পাথরের মত মনে হবে।
আধুনিক ইতিহাস রচনার উপাদান
ইতিহাস লিখন পদ্ধতির পর্যায় গুলো কি কি?
আধুনিক ইতিহাসের জনক কে?
লিখন পদ্ধতির ইতিহাস?
আধুনিক ইতিহাস চর্চার দুটি বৈশিষ্ট্য
আধুনিক ইতিহাস লিখন পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো দুটি শিল্প জাদুঘরের নাম লেখো?
