ভূমিকা : আমরা আগেই জেনেছি কারণ হলো কতগুলি আবশ্যিক শর্তের সমষ্টি। এইসব শর্তের মধ্যে কোন একটিকে যদি কোন কার্যের কারণ হিসাবে গণ্য করা হয় তাহলে যুক্তিতে দোষ ঘটে তাকে বলা হয় আবশ্যিক শর্ত কে সমগ্র কারণ বলে মনে করার দোষ।
Example: একজন ব্যক্তি মই থেকে পা ফোস্কে মাটিতে পড়ে মারা গেল। সুতরাং মই থেকে পড়ে যাওয়ায় ব্যক্তিটির মৃত্যুর কারণ।
দোষ : একটি আবশ্যিক শর্ত কে কারণ হিসাবে মনে করার দোষ।
ব্যাখ্যা: এই আরোহ যুক্তিটিতে একটি আবশ্যিক শর্ত কে কারণ বলে গণ্য করার জন্য দোষ ঘটেছে। একথাও সত্য যে 'মই থেকে পড়ে যাওয়া ব্যক্তির মৃত্যু একটি আবশ্যিক শর্ত।'কিন্তু এটি কে পর্যাপ্ত শর্ত বলা যাবে না কারণ এই শর্তের সঙ্গে আরো কতগুলো শর্ত যুক্ত আছে। মইটির উচ্চতা, লোকটির শারীরিক দুর্বলতা, দৃষ্টি শক্তির অভাব, প্রাথমিক চিকিৎসার অভাব, এই সব শর্ত কে উপেক্ষা করে কেবল একটি শর্ত কে সমগ্র কারণ বলে মনে করার জন্য আবশ্যিক শর্ত কে সমগ্র কারণ বলার দোষ হয়েছে।
২.) মন্দ উপমা: যে উপমা যুক্তি তে দুটি বিষয়ের সাদৃশ্য নিছকই আকর্ষিক, বাহ্যিক ও প্রাসঙ্গিক ও কম গুরুত্বপূর্ণ এবং তারই ভিত্তিতে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাহলে তাকে মন্দ বা দুষ্ট উপমা যুক্তি বলে।
উদাহরণ: একটি দড়ি সব সময় জলে ভিজে থাকলে নষ্ট হয়ে যায়। সুতরাং আমাদের রোজ স্নান করা উচিত নয়।
দোষ: মন্দ উপমা ।
ব্যাখ্যা: আলোচ্য আরোহ যুক্তিটিতে দড়ির সঙ্গে মানুষের শরীরের তুলনা করা হয়েছে। কিন্তু এখানে তুলনা বা সাদৃশ্যের গুরুত্ব খুবই কম, বলা হয়েছে দড়ি সবসময় জলে ভিজ থাকলে যেমন নষ্ট হয়ে যায় তেমনি শরীর জলে ভিজে থাকলে নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু বস্তু হিসেবে দড়ি ও শরীরের সাদৃশ্য মোটেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই চুক্তিটিতে মন্দ উপমা যুক্তি দোষ ঘটেছে।
