শ্রীরামপুর মিশন : বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ সৃষ্টির অন্যতম কারণ মধ্যযুগের কাব্যরচনার পরিসমাপ্তি, ইংরেজ সিভিলিয়ানদের আগমন এবং প্রশাসনিক ও খ্রিস্টধর্ম প্রচারের জন্য নিত্যব্যবহার্য বাংলা গদ্যভাষা সৃষ্টি। বাংলা ভাষায় গদ্যচর্চার পথিকৃৎ বলা হয় উইলিয়াম কেরিকে। তাঁকে উপমহাদেশে আনার ব্যাপারে জন টমাসের ভূমিকা অগ্রগণ্য। জন টমাস তাঁকে সঙ্গে নিয়েই মিশন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু মিশন প্রতিষ্ঠার আগে আঠারোশো সালের প্রথম দিকে জন টমাস মারা যান।
উইলিয়াম কেরি ওই বছরেই জোসুয়া মার্শম্যান, উইলিয়াম ওয়ার্ড ও ডেনিশদের সহযোগিতায় কলকাতার অদূরে শ্রীরামপুর মিশন প্রতিষ্ঠা করেন যাদেরকে শ্রীরামপুর ত্রয়ী বলা হয়৷ এই শ্রীরামপুর মিশনের পৃষ্টপোষকতায় পঞ্চানন কর্মকার সর্বপ্রথম বাংলা মুদ্রা অক্ষর খোদাই করেন।
পঞ্চাননের পরিবার ইস্পাত, লোহা, তামা, কাঁসাসহ ধাতব বস্তুতে সুনিপুণ ডিজাইন ও লিপিকরণে পারদর্শী ছিল। শিষ্য ও সহকর্মী হিসেবে বাংলা হরফ নির্মাণে পঞ্চানন উইলকিনসকে সাহায্য করেন। শ্রীরামপুর মিশনের প্রাণপুরুষ উইলিয়াম কেরির বিদ্রোহী সন্তান ফেলিক্স কেরি এই প্রতিষ্ঠানেই এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার পঞ্চম সংস্করণের আলোকে বিদ্যাহারাবলী রচনা করেছিলেন।
অমিতপ্রতিভাবান কিন্তু চরম উচ্ছৃঙ্খল ফেলিক্সের জীবন তারপর অন্য খাতে বইতে থাকে। তিনি শুধু A অক্ষরের শ্রেণিতে Anatomy-র অংশটুকু শেষ করতে পেরেছিলেন। এই কারণে বিদ্যাহারাবলীকেই(১৮২০) বাংলায় প্রথম
অস্থি ও শরীরবিদ্যার গ্রন্থের মর্যাদা দেওয়া উচিত।
ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত বই বা সংবাদপত্র থেকে পাশ্চাত্য জ্ঞানবিজ্ঞানমূলক নানা রচনা বাংলায় অনূদিত হতে শুরু করে উনিশ শতকের একেবারে সূচনালগ্ন থেকেই।
এইসব নিবন্ধ প্রকাশিত হত বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়। শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত ও জন ক্লার্ক সম্পাদিত প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র ‘দিগদর্শন’ ছাত্রদের উপযোগী ইতিহাস, ভূগোল, বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ে প্রবন্ধ প্রকাশ করত।
এই সব প্রবন্ধের লেখক ছিলেন একাধিক খ্যাতনামা ও অজ্ঞাতনামা বাঙালি সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত।
