সপ্তম শ্রেণী | পরিবেশ ও বিজ্ঞান শিক্ষক বিষয়ের প্রশ্ন উত্তর | মানুষের খাদ্য
সপ্তম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান বিষয় থেকে মানুষের খাদ্য থেকে প্রশ্ন উত্তর
Life science
মানুষের খাদ্য
১) উদ্ভিদ দেহে সালফারের উৎস, কার্যকারিতা ও অভাবজনিত লক্ষণ গুলি লেখ?
উৎস:- মৃত্তিকা স্থিত সালফার ঘটিত লবণ। [ক্যালসিয়াম সালফেট, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ইত্যাদি উদ্ভিদের মূলের দ্বারা শোষণ করে। এছাড়া, স্থলজ উদ্ভিদ বায়ুর সালফার-ডাই-অক্সাইড পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে শোষণ করে।]
কার্যকারিতা-: 1) উদ্ভিদ দেহে শর্করা জাতীয় খাদ্যের সংবহনে ও মূলের বৃদ্ধির জন্য সালফার অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান 2) এছাড়া, প্রোটিন, নিউক্লিক অ্যাসিড, উৎসেচক প্রভৃতি তৈরিতে সালফার অংশগ্রহণ করে।
অভাবজনিত লক্ষণ-: উদ্ভিদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। কান্ড দুর্বল হয়ে পড়ে।
২) মানুষের খাদ্যে লোহার প্রয়োজনীয়তা কি?
- মানবদেহের পুষ্টিতে লোহা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
1) লোহিত রক্ত কণিকার সৃষ্টিতে এবং হিমোগ্লোবিন গঠনে লোহা বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়, রক্তে অক্সিজেন পরিবহনে লোহা সাহায্য করে থাকে।
2) সামান্য পরিমান লোহা কোন কোন উৎসেচক গঠনে অংশগ্রহণ করে।
3) লোহা লিম্ফোসাইট (একপ্রকার শ্বেত রক্তকণিকা) উৎপাদনে সাহায্য করে।
4) মাতৃ দেহে ভ্রূণের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৩) সুষম খাদ্যের বৈশিষ্ট্য গুলি লেখ ?
- - সুষম খাদ্যের মধ্যে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, খনিজ লবণ, ভিটামিন এবং জল উপযুক্ত অনুপাতে উপস্থিত থাকে যা প্রমানিত।
- - এই খাদ্য খাবার গ্ৰহণ করলে দেহের স্বাভাবিক কাজের জন্য উপযুক্ত পরিমাণ তাপশক্তি পাওয়া যায় দেহে।
- -এই খাদ্য দেহের গঠন মূলক ক্রিয়া-কলাপ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- - এটি দেহের কলা কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।
৪) একটি সুষম খাদ্য তালিকা প্রস্তুত এর সময় কি কি সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত বলে মনে হয়?
- - একটি সুষম খাদ্য তালিকা প্রস্তুত এর সময় যে বিষয়গুলি মনে রাখা প্রয়োজন, সেগুলি হল-
- ব্যক্তির বয়স, কর্ম ও দৈহিক অবস্থা।
- দেহের ওজন এবং বয়স অনুযায়ী সুষম খাদ্য উপযুক্ত পরিমাণ পুষ্টি মূল্য বা ক্যালোরি থাকছে কিনা।
- দেহের ক্ষয়পূরণ ও প্রোটোপ্লাজমের গঠন এর জন্য খাদ্যের উপযুক্ত পরিমাণে প্রোটিন রাখা হয়েছে কিনা।
- দেহ সংরক্ষণের জন্য খাদ্য উপযুক্ত ভিটামিন, খনিজ লবণ ও জলের ব্যবস্থা রয়েছে কিনা - ইত্যাদি বিষয় গুলি।
৫) মানবদেহের লিপিড বা স্নেহ জাতীয় খাদ্যের অভাবে যে লক্ষণ ও প্রতিকার দেখা দেয় তা লেখ?
- - শরীরের ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়। ফ্রেনোডারমা নামক রোগ হয়।
- স্নেহ দ্রব্যের অভাবে ভিটামিন A,D,E এবং K শোষণ ও পরিবহণ ব্যাহত হয়।
- অনেক সময় চুল উঠে যায় ও খুশকি দেখা দেয়, স্বাভাবিকভাবে ক্ষত নিরাময় হয় না।
- শরীরে জলের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। এছাড়া পেটের অসুখ দেখা দেয়।
৬) মানবদেহে ভিটামিন A এর অভাবজনিত লক্ষণ ও প্রতিকারের উল্লেখ করো?
- - চোখের রোগ দেখা দেয়। প্রথমে রাতকানা এবং দীর্ঘদিন ভিটামিন A এর অভাব ঘটলে জেরপথ্যালাসেমিয়া এবং ক্যারাটোম্যালেশিয়া রোগ দেখা দেয়।
- ত্বকের ফ্রেনোডারমা রোগ হয়। ব্যাং এর মত ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ্ম হয়ে যায়। একে ব্যাং ত্বক বলে।
- দেহের বিভিন্ন অঙ্গের আবরণী কলা আক্রান্ত হয়।
- অস্থির গঠন এবং দাঁতের গঠন ঠিক মত হয়না।
৭) মানবদেহে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এর অভাবজনিত লক্ষণ ও প্রতিক্রিয়া লেখ?
- - B1 এর অভাবে বেরিবেরি রোগ দেখা দেয় মানবদেহে।
- B2 এর অভাবে ঠোঁটে ঘা জিহ্বায় ঘা দেখা দেয়।
- B3 এর অভাবে পেলেগ্রা রোগ দেখা দেয়।
- B5 এর অভাবে অন্তরে ঘা, চর্মরোগ দেখা দেয়।
- B6 এর অভাবে দেহ বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, অনিদ্রা, রক্তাল্পতা, স্নায়ু দুর্বলতা ইত্যাদি দেখা দেয়।
- B12 এর অভাবে দেখা দেবে রক্তাল্পতা, মুখে ঘা হয়।
৮) মানবদেহে ভিটামিন C এর অভাবজনিত লক্ষণ ও প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করো?
- স্কার্ভি রোগ দেখা দেয়। ফলে দাঁতের মাড়ি ফুলে ওঠে, মাড়ি থেকে রক্ত ক্ষরণ হয়, দাঁত আলগা হয়।
- দাঁত ও অস্থির গঠনে বিকৃতি দেখা দেয় এবং অস্থিভঙ্গ হয়।
- শরীরে রক্তাল্পতা রোগ দেখা দেয়।
- দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
৯) মানবদেহে ভিটামিন ডি D এর অভাব জনিত লক্ষণ ও প্রতিকার লেখ ?
- - শিশুদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, অস্থির গঠন ঠিকমতো হয়না, পেসির টান কমে যায়, পেশীর খিঁচুনি বাহার টিটেনি রোগ হয়।
- মেরুদন্ডের অস্থি বিকৃতি ঘটে, দাঁতের গঠন ও ব্যাহত হয়।
- বয়স্কদের ক্ষেত্রে অস্টিওপোরেসিস রোগ দেখা দেয়, অস্থি ছিদ্র যুক্ত হয়ে পড়ে।
- এছাড়া ভিটামিন ডি এর অভাবে শিশুদের রিকেটস এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়।
১০) শিশুদের ক্ষেত্রে দুধকে আদর্শ খাদ্য বলে গণ্য করা হয় কেন?
- - দুধে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল খাদ্য উপাদানের সঠিক অনুপাতে রয়েছেন।
- দুধ শিশুদের দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধি সাধন করে, দেহের উষ্ণতা বজায় রাখে, দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে।
- দুধ শিশুদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
১১) সবুজ শাকপাতা পুষ্টিগত গুরুত্ব লেখ?
- -সবুজ শাকপাতা তে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, ই, কে, রাইবোফ্লাভিন, ফলিক এসিড থাকে। ভিটামিন-সি একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ক্যানসার এর মত রোগ দুর্বলতা ইত্যাদি প্রতিরোধ করে।
- ভিটামিন ছাড়াও সবুজ শাক পাতায় থাকে বিভিন্ন খনিজ লবণ যেমন-ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আইরন এবং পটাশিয়াম।
- সবুজ শাকপাতা কোলেস্টেরল ও ক্যালরির পরিমাণ কম থাকায় তার মেদবহুল ব্যক্তিদের পক্ষে বিশেষ উপযোগী।
- সবুজ শাকপাতা দেব প্রোটিন যথেষ্ট পরিমাণে থাকে। সেলুলোজ নামক খাদ্য তন্তু থাকে, জা মল প্রস্তুত ও নির্গমনের সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
১২) ফলের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য গুলি লেখ?
- - ফলের মধ্যে পলিস্যাকারাইড, হেমিসেলুলোজ এবং পেক্টিন থাকে। এছাড়া যথেষ্ট পরিমাণ তন্তু এবং কিছু জৈব অমলো থাকে।
- পাকা ফলের মধ্যে সুক্রোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্লুকোজ প্রভৃতি শর্করা প্রচুর পরিমাণে থাকে।
- ফলের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ পাওয়া যায়।
- ফলের মধ্যে উৎসেচক থাকে। উৎসেচকের ক্রিয়া ও ফলের স্বাদ গন্ধ এবং বর্ণ পাল্টে যায়।
- ফলের মধ্যে প্রায় 80 শতাংশ জল থাকে।
১৩) লেবুজাতীয় ফল এর উপকারিতা কি?
- - লেবুর রস অরুচি কাটাতে সাহায্য করে। ভাত, স্যালাড, চানা প্রভৃতির সঙ্গে টক লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়া হয়।
- লেবুর রস আমাদের খিদে বাড়ায়। পেটের অসুখে কার্যকরী হয় এটা। এটি যকৃতের রোগে খুব উপকারী।
- লেবুর রসে ভিটামিন-সি থাকায় এটি লোহা শোষণে সহায়তা করে। ভিটামিন সি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে।
- লেবুর শরবত পানীয় হিসেবে উৎকৃষ্ট এবং পুষ্টি বর্ধক। লেবুর রস নিয়মিত পান করলে দেহের দুর্বলতা কাটে।
১৪) খাদ্যে সবুজ ও হলুদ শাকসবজির গুরুত্ব কি?
- সবুজ শাক বলতে পুঁই, পালং, নটে, লেটুস অমৃতি সাক বোঝায়, আবার হলুদ সবজি বলতে কুমড়ো, গাজর প্রভৃতি কে বোঝায়।
খাদ্যে সবুজ ও হলুদ শাকসবজির গুরুত্ব গুলি হল-
- সবুজ শাক পাতায় শর্করা, শ্বেতসার এবং সেলুলোজ যথেষ্ট পরিমাণে থাকে। এছাড়া এগুলিতে ফলিক অ্যাসিড, এসকরবিক এসিড, রাইবোফ্লাভিন প্রভৃতি ভিটামিন এবং ক্যালসিয়াম, লোহা প্রভৃতি খনিজ লবণ থাকে।
- হলুদ সবজিতে ভিটামিন এ প্রচুর পরিমাণে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের খনিজ উপাদান থাকে।
- শাকসবজি ক্ষুধানিবৃত্তি তে সহায়তা করে। এছাড়া এগুলি মল নির্গমনে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য নিবারণে সহায়তা করে।
১৫) মানবদেহে শর্করা জাতীয় খাদ্যের অভাব জনিত লক্ষণ ও প্রতিক্রিয়া লেখ?
- - শর্করা জাতীয় খাদ্যের অভাবে স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্যের দহন ক্রিয়া অসম্পূর্ণ থাকে। এর ফলে দেহের রক্তে কিটোন বডি উৎপন্ন হয় যার আধিক্যের ফলে দেহে কিটোসিস রোগ হয়।
- দেহে ক্লান্তি জলাভাব ও ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি হয়।
- রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যায় এবং এর ফলে মস্তিষ্কের কলার ক্ষতি হয়।
- শর্করার অভাবে প্রোটিন দেহের প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান দেয়, কলা কোষ গঠনের কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে না। ফলে কোষ গঠন অক্ষয় পূরণের কাজ ব্যাহত হয়।
আশা করি পোস্টটি তোমাদের ভালো লেগেছে এবং এই ধরনের পোস্ট পেতে আমাদের এই ওয়েবসাইটটি কে ফোলো করতে ভুলবেনা। কারন যখনই কোন নতুন পোস্ট আপলোড করা হবে তার নোটিফিকেশন সবার প্রথমে আপনার দিকে তাক করা থাকবে। আপনারা ফলো করতে পারেন আমাদের ইনস্টাগ্রাম চ্যানেলটিকে এবং ফেসবুক পেজে লাইক দিতে পারেন এবং আমাদের সাপোর্ট করতে পারেন।

